ঝরণা, পাহাড় ও মেঘের মিলন রাজ্য শিলং
কিভাবে যাবেন:
প্রথমে ঢাকার গুলশান ইনডিয়ান হাইকমিশন থেকে By road Tamabil টুরিস্ট ভিসা করাবেন।
ঢাকা থেকে তামাবিল বাই বাস টু শিলং ট্যাক্সি ।
বিস্তারিত: প্রথমে বলে রাখি কেউ দাজিলিং কে শিলং এর সাথে তুলনা করবেন না। শিলং এ দার্জিলিং এর সব পাবেন বোনাস হিসেবে অগনিত ঝরণা। শিলং এর রাস্তার সৌন্দর্য ভাষায় প্রকাশ করা যাবেনা।
প্রথমে মতিঝিল সোনালি ব্যাংক থেকে ৫০০ টাকা দিয়ে
ভ্রমন ট্যাক্স দিয়ে মহাখালি/ফকিরাপুল থেকে ঢাকা টু সিলেট এর টিকেট কাটবেন। এ রুট এর সবচেয়ে ভালো নন এসি বাস এনা ও ইউনিক। ভাড়া পড়বে ৪৭০ টাকা। চেষ্টা করবেন শেষের বাসটা ধরার জন্য। রাতে বাসা থেকে বার হলে যাত্রা বিরতি তে খাওয়া লাগবেনা। মাএ ৫ ঘন্টার ধাক্কা। ভোরে নেমে ঝটপট পরটা ডিম দিয়ে ৫০ টাকার মধ্যে নাসতা সেরে নেন। তারপর সিলেট থেকে ঝাফলং এর বাস এ উঠে পরবেন। ভাড়া পড়বে ৬৫ টাকা।
বলে রাখা ভালো সবচেয়ে সুবিধা ডলার নিয়ে গেলে। আর ভ্রমন ট্যাক্স না দিয়ে গেলে আপনাকে গুনতে হবে ১০০০ টাকা। তামাবিল নেমে ঝামেলা না করতে চাইলে ১০০ টাকা দিয়ে মাএ ১৫ মিনিটে ঢুকে পডুন ডাউকি। এখান থেকে শিলং জন প্রতি ৩০০ রুপি তে পৌছাতে পারবেন শিলং। আবার যদি সোনাংপেডেং (ঝাফলং এর বিপরিত অংশ) ও কারংগছিরি ঝরণা ও আরো অনেক ছোট বড় ঝরণা দেখে যেতে চান তাহলে লাগবে জন প্রতি ৮০০ রুপি। শিলং শহরে পৌছে দুপুরের খাবার খেয়ে নেন। এখানে খাবারের অনেক দাম। পুলিশ বাজারে হোটেল সাবেরা তে অন্যান্য হোটেল এর চেয়ে কমে খেতে পারবেন। তাও মোটামুটি জন প্রতি ১৫০ রুপি লেগে যাবে ।এখন পুলিশ বাজার এর ভিতরের দিকে হোটেল বা লজ নেবেন কারণ রোডের ওপরের হোটেল ভাড়া অনেক। ৪ জনের ৩ দিনের জন্য ৬০০০ রুপিতে (জন প্রতি ১৫০০) দিয়ে মোটামুটি মানের হোটেল পেয়ে যাবেন। এ দিন রাতে পরের দিন সিটি টুর এর জন্য গাড়ি নিয়ে রাখবেন। গাড়ি ভাড়া পড়বে ১৫০০ রুপি(জন প্রতি ৩৭৫ রুপি) । হোটেল সাবেরা তে রাতের খাবার খেয়ে তাড়াতাড়ি ঘুমাতে চলে যান। মনে রাখবেন শিলং এ রাত ৭টার পরে বেশীরভাগ দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়।
পরেরদিন ভোরবেলা উঠে সিটি টুর এ বেরিয়ে যান। রাস্তায় ৫০ রুপির মধ্যে নাস্তা সেরে নিন। গাড়ি প্রথমে আপনাকে নিয়ে যাবে শিলং পিক। যেখান থেকে আপনি মেঘের ভেলায় চড়ে পুরো শিলং শহর দেখতে পারবেন। তারপর যাবেন শিলং এর বিখ্যাত এলিফেনট ফলস এ। এলিফেনট ফলস দুইটি সট্যাপ এ বিভক্ত। এর পর উমিয়াম লেক, বারাপানি লেক। বারাপানি লেক এ চাইলে বোট বা ওয়াটার স্কুটার এ ঘুরতে পারবেন কিন্তু এর জন্য লাগবে আলাদা টাকা। এরপর যাবেন ওয়াপদা লেক ও লেডি হাইডারি পার্ক, ডন বসকো মিউসিয়াম, বেদান ফলস ও ক্যাথেডরাল। দুপুরের ও রাতের খাবার বাবদ জন প্রতি ৩০০ রুপি । আর বিভিন্ন পয়েনট এ এনটরি বাবদ ১০০ রুপি। পরের দিন চেরাপুনজির জন্য গাড়ি তৈরি করে রাখুন।গাড়ি ভাড়া পড়বে ১৮০০ রুপি(জন প্রতি ৪৫০ রুপি)।
পরেরদিন ভোরবেলা উঠে চেরাপুনজির উদ্দেশ্য এ ভোরবেলা বেরিয়ে যান। বলে রাখা দরকার সবসময় ব্যাগ এ ছাতা রাখবেন। কারণ চেরাপুনজি পৃথিবির সবচেয়ে বেশি বৃষটিপাত এলাকা। এ দিন দেখবেন মওডক ভ্যালি, মাওলিলং ভিউ পয়েনট, মউসুমি ইকো পার্ক, ভয়ানক মউসুমি গুহা, বিখ্যাত সেভেন সিসটার ফলস, থাকরানগ ইকো পার্ক, রামকৃষ্ণ মিশন ও শিলং এর প্রধান আকর্ষণ নোকালিকাই ফলস। তারপর শিলং শহরে ফিরে পরের দিন ফেরার জন্য গাড়ি ঠি ক করতে হবে।
গাড়ি এমন ভাবে ঠি ক করতে হবে যে গাড়ি যেন বড় হিল ফলস (যা বাংলাদেশ এ পানতুমাই নামে পরিচিত), লিভিং রুট ব্রিজ, ব্যালানসিং রক ও এশিয়ার সবচেয়ে পরিষ্কার গ্রাম মাউলিলং ঘুরে বিকাল ৫ টার মধ্য এ বাংলাদেশ ঢুকতে হবে। দুপুরের খাবার মাউলিলং গ্রাম এ সেরে ফেলবেন। গাড়ি ভাড়া পড়বে ২৫০০-৩০০০ রুপি(জন প্রতি ৬২৫-৭৫০রুপি)।
তামাবিল বর্ডার এ সমস্ত ফরমালিটিস শেষ করে সিলেট শহরে এসে পাঁচ ভাই হোটেল পেটচুকতি খেয়ে রাতের বাসে ঢাকা এসে পরবেন। ভাড়া পড়বে ৪৭০ টাকা।
শিলং খুব পরিষ্কার শহর। পরিবেশ পরিষ্কার রাখবেন। বলে রাখা দরকার এখানে সবকিছু দোকানপাট সন্ধ্যা ৭ টার মধ্যে বন্ধ হয়ে যায়। তাই সন্ধ্যার আগে কেনাকাটা শেষ করবেন। বাসে করে ও সিটি টু্র ও চেরাপুনজি টুর দেয়া যায়। সিটি টু্র এ ২৫০ রুপি ও চেরাপুনজি টুর এ ৩০০ রুপি লাগবে।
***********HAPPY JOURNEY ************
No comments:
Post a Comment